২৮ নভেম্বর ২০২১ ১১:২৮ অপরাহ্ন

২৮ নভেম্বর ২০২১ ১১:২৮ অপরাহ্ন

নন্দিত সিলেট

নভেম্বর ২৩, ২০২১
৪:১৭ অপরাহ্ন


সিলেট নগরীর পুকুর-দীঘিসহ সব জলাশয় সংরক্ষণের উদ্যোগ


সিলেট নগরীর অভ্যন্তরের পুকুর-দীঘিসহ সকল জলাশয় সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক)।

২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর সিলেট সিটি কর্পোরেশনের অভ্যন্তরে জলাশয় সংরক্ষণে করণীয় বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আনীত সুপারিশের ভিত্তিতে মহানগরীর পুকুর-দীঘিসহ জলাশয়ের পূর্ণাঙ্গ তালিকা সংগ্রহে সিলেট সিটি কর্পোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি, পরিবেশ কর্মী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধির সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করেন বেলার সমন্বয়ক। এরপর সভাতেই যেন সীমাবদ্ধ থাকে সিসিকের উদ্যোগ।

তবে হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা। বেলা সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় থেকে মহানগরীর পুকুর-দীঘিসহ সকল জলাশয়ের তালিকা সংগ্রহে কমিটি গঠনের ব্যবস্থা নিতে গত ২৭ জানুয়ারি সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের নিকট পত্র দেয়। তবুও নিরব ছিল সিসিক। এরপর তথ্য অধিকার আইনের আশ্রয় নেয় বেলা। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি বেলার পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে তথ্য অধিকার আইনে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়। এরপর টনক নড়ে সিসিকের। গত ১০ নভেম্বর সিলেট মহানগরীর পুকুর-দীঘিসহ সকল জলাশয়ের তালিকা সংগ্রহে কমিটি গঠন করা হয়।

৬ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আরবান প্লানার মো. তানভীর রহমান মোল্লা। সদস্য রাখা হয়েছে বেলা, সনাক, পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের।

কমিটির সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এক সময় সিলেটকে পুকুর বা দীঘির শহর বলা হতো। নানা নামে ছিলো অনেক দীঘি। সেই লালদীঘি, বেকাদীঘিসহ অনেক দীঘি অস্তিত্ব হারিয়েছে। মসজিদ, স্কুল, পার্কসহ সরকারি ভবনও গড়ে উঠেছে এসব দীঘিতে। সর্বশেষ যেগুলো রয়েছে, সে দীঘিগুলো সংরক্ষণে দেরিতে হলেও উদ্যোগী হয়েছে সিসিক। সেটা যেন দ্রুত বাস্তবায়ন হয়।

অন্যদিকে সিলেট নগরীর পুকুর-দীঘিসহ জলাশয় সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ায় এখন এগুলো সংরক্ষণ করা হবে বলে আশা করেছেন কমিটির আরেক সদস্য ও বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার। তিনি বলেন, বেলা দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়ে কাজ করে আসছে। বেলা এ বিষয়ে অনেক কর্মসূচিও পালন করেছে। নগরবাসী অনেক আন্দোলন সংগ্রামও করেছেন। সিসিকের কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে পুকুর-দীঘিসহ জলাশয় সংরক্ষণের পথ সুগম হলো।

সিলেট মহানগরীর পুকুর-দীঘিসহ সকল জলাশয়ের তালিকা সংগ্রহে কমিটির আহবায়ক ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের আরবান প্লানার মো. তানভীর রহমান মোল্লা জানান, কমিটিতে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আগামী ২৬ নভেম্বরের মধ্যে কমিটির সকলকে নিয়ে বসব। এরপর আলাপ আলোচনা করে আমরা কাজ শুরু করব। নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যেই তালিকা তৈরি করে জমা দেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মোট জলাভূমির পরিমাণ ১ হাজার ৩৫৬ দশমিক ৩০ একর । এর মধ্যে পুকুর, দীঘি, খালও রয়েছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, নগরীতে পুকুর-দীঘির সংখ্যা ২৮টি।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার তথ্য অনুযায়ী এর সংখ্যা ৩৬টি। তবে নতুন তালিকা তৈরি হলে বেরিয়ে আসবে বর্তমানে কতটা দীঘি কিংবা জলাশয় বেঁচে আছে।