২৯ নভেম্বর ২০২১ ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

২৯ নভেম্বর ২০২১ ১২:২৭ পূর্বাহ্ন

নন্দিত ডেস্ক

নভেম্বর ২৫, ২০২১
১:২৫ অপরাহ্ন


হাওরের ‘শিক্ষার বাতিঘর’ পেলো নিবন্ধন


বর্ষায় চারপাশে পানি থাকে। মাঝখানে বসতি। বের হলে নৌকা নিয়ে যেতে হয়। আর শুকনা মৌসুমে পায়ে হেঁটে চলা। এছাড়া উপায় নেই।

হবিগঞ্জ জেলার বাহুবল উপজেলার গুঁঙ্গিয়াজুরী হাওর এলাকায় অবস্থিত এ স্থানটির নাম সমুদ্রফেনা। এখানে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর কন্যা সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর দান করা প্রায় ৩৫ বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে শোকর গোজার দাতব্য প্রতিষ্ঠান। এর উদ্যোগে তৈরি হয়েছে শোকর গোজার পাঠশালা। প্রার্থনাগারের কাজ চলমান রয়েছে।

কেয়া চৌধুরী বলেন, শোকরগোজার প্রার্থনাগারে এক অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সনদ প্রদান করে। জেলা সমাজসেবার উপ-পরিচালক মো. হাবিবুর রহমান এ নিবন্ধনের সনদ প্রদান করেন। আমি সনদ গ্রহণ করেছি। এর আগে চলতি বছরের ১৩ জুন দুপুরে শোকরগোজারে পাঠশালার উদ্বোধন করেন নারী বীর মুক্তিযোদ্ধা (বীরাঙ্গনা) সাবেত্রী নায়েক। পাঠশালায় ১ম থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান দেওয়া হচ্ছে।

হাওর এলাকা হওয়ায়, এখানকার শিশুরা প্রায় শিক্ষা বঞ্চিত। এসব বঞ্চিত শিশুদের মাঝে সুশিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্যই এ পাঠশালা চালু করা হয়েছে। এখানে লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের অনেক দূর এগিয়ে যাওয়ার পথ দেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, এখানকার লোকেরা পানির সাথে লড়াই করে বেঁচে আছেন। তারা সংগ্রামী। এরমধ্যে অনেক দরিদ্র লোক আছেন। আমি তাদের পরিবারের সন্তানদের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করাতে চেষ্টা করছি। এ হাওরের মাঝখানে একখণ্ড জমিতে শিক্ষার বাতিঘর গড়ে তুলেছি। এজন্য সবার সহযোগিতা একান্তভাবে প্রয়োজন।

৩৮ জন শিক্ষার্থীকে নিয়ে এ পাঠশালায় যাত্রা শুরু হয়েছিল। উদ্দেশ্য মহৎ। লক্ষ্য বহুদূর। করোনা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগকালে এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসহায় লোকজনকে নানাভাবে সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। আমার ও আমার স্বামীর ব্যক্তিগত অর্থে এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চলমান আছে। সনদপত্র অনুষ্ঠানের পর প্রার্থনার আয়োজন করা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট সবাই অংশগ্রহণ করেন, বলেন তিনি।

শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলেন, হাওরের মাঝখানে শিক্ষার বাতিঘর। সবকিছু যেন স্বপ্নের মতো লাগছিল। এসব সম্ভব হয়েছে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর কন্যা সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরীর অক্লান্ত চেষ্টার ফলে। এ পাঠলাশায় আমাদের সন্তানরা লেখাপড়া করে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই অত্যন্ত ভালো লাগছে। এছাড়া এ প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অসহায় লোকজনকে সহায়তা চলমান রয়েছে।