২৮ মে ২০২২ ০১:৩১ অপরাহ্ন

২৮ মে ২০২২ ০১:৩১ অপরাহ্ন

নন্দিত ডেস্ক

জানুয়ারী ১৯, ২০২২
১১:০৯ পূর্বাহ্ন


গ্যাসের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ


প্রায় তিন বছর পর বাড়তে যাচ্ছে জ্বালানি গ্যাসের দাম। পেট্রোবাংলার প্রস্তাবের বিপরীতে দাম সমন্বয়ের প্রস্তাব নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠাতে সম্মতি দিয়েছে সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সে অনুযায়ী মূল্যহার বৃদ্ধির প্রস্তাব কমিশনে জমা দিতে শুরু করেছে গ্যাস সঞ্চালন, উৎপাদন এবং বিতরণ কোম্পানিগুলো। প্রস্তাব বিশ্লেষণ ও শুনানি শেষে দামবৃদ্ধির ঘোষণা আগামী জুন মাসে করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

গত দুই দিনে জমা দেওয়া তিনটি বিতরণ কোম্পানি গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি নির্ধারণ করতে চায়। তবে তাদের চাওয়াকে ‘অতিরিক্ত’ বলছেন বিইআরসির শীর্ষ কর্মকর্তারা। অন্যদিকে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা বলছেন, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বাড়ালেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে বাণিজ্যের-শিল্পের চাকা সচল রাখা যায়। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে দাম বৃদ্ধি হলেও সরবরাহ না বাড়ায় শিল্প উৎপাদনের গতি ধীর এবং অনেক ক্ষেত্রে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিইআরসি এবং পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে ছয়টি গ্যাস বিতরণকারী কোম্পানি রয়েছে। এগুলোর মধ্যে তিনটি কোম্পানি গত সোম ও মঙ্গলবারে গ্যাসের দাম বাড়াতে পেট্রোবাংলায় প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কোম্পানিগুলো গ্যাসের দাম ১০৩ থেকে ১১৬ শতাংশ পর্যন্ত অর্থাৎ দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। এর আগে গত সপ্তাহে চারটি কোম্পানি প্রস্তাব দিয়েছিল। সেগুলো বিধিমতো না হওয়ায় ফেরত পাঠিয়েছিল বিইআরসি।

এদিকে, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির উদ্যোগ থেকে সরে আসার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন। তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ কাজ-চাকরি হারিয়ে কম মজুরি/বেতনসহ ব্যবসা ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ রকম পরিস্থিতিতে নতুন করে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। কয়েক জন শিল্পোদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি অনেক পণ্য ও সেবার দাম বাড়াবে।

বিইআরসির এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, সব বিতরণ ও উৎপাদন এবং সঞ্চালন কোম্পানির প্রস্তাব পাওয়া গেলে কারিগরি কমিটি সেগুলো মূল্যায়ন করবে। তারপর গণশুনানি ডাকা হবে। তাতে সব অংশীজনদের দাবি-মতামত-মূল্যায়নশেষে দাম সমন্বয়ের ঘোষণা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- গৃহস্থালি, শিল্পসহ সব শ্রেণির গ্যাসের দাম বাড়াতে হবে। তবে তা কতটুকু বাড়ানো হবে তা মূল্যায়ন ও শুনানি শেষে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জানানো হবে। শুনানি শেষে ৯০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্তসহ গণবিজ্ঞপ্তি জারি করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে বিইআরসির। কোম্পানিগুলো আগামী ফেব্রুয়ারিতে দাম বাড়াতে চাইলেও সব মিলিয়ে জুনে গ্যাসের দাম বাড়ানো হতে পারে। সর্বশেষ ২০১৯ সালের জুলাইয়ে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল।

বিইআরসির সদস্য মকবুল-ই-ইলাহী জানান, দেশে উৎপাদিত গ্যাসের দাম বাড়েনি। বিদেশ থেকে আমদানি করা সিংহভাগ এলএনজির দামও পূর্বনির্ধারিত। শুধু খোলাবাজার থেকে আমদানি করা এলএনজির দাম বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে কতটুকু খরচ বৃদ্ধির বিপরীতে কতটুকু দাম বাড়াতে চায় কোম্পানিগুলো তার যৌক্তিকতাও মূল্যায়ন করা হবে।

বিইআরসিতে দেওয়া বাখরাবাদ গ্যাস কোম্পানির প্রস্তাবে বাসাবাড়িতে প্রতি সিঙ্গেল চুলার গ্যাসের দাম ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা এবং দুই চুলার গ্যাসের দাম ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ১০০ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। আবাসিকে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি ঘনমিটারের বিদ্যমান মূল্য ১২.৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৭.৩৭ টাকা, সিএনজি প্রতি ঘনমিটার ৩৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৬.০৪ টাকা, হোটেল-রেস্টুরেন্টে ২৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪৯.৯৭ টাকা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ১৭.০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৭.০২ টাকা, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৩.৮৫ টাকা থেকে ৩০.০৯ টাকা এবং চা শিল্পে ১০.৭০ টাকা বাড়িয়ে ২৩.২৪ টাকা হতে পারে। অন্যদিকে, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় থাকা বিদ্যমান দর ৪.৪৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৬৬ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাড়তি বিদ্যমান গড় ৯.৩৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০.৩৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

বাখরাবাদের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) আমদানি মূল্য ৩৬.৬৯ টাকা, মূসক, অগ্রিম আয়কর, ফিন্যান্সিং চার্জ, ব্যাংক চার্জ ও কমিশন, রি-গ্যাসিফিকেশন চার্জ, ভোক্তা পর্যায়ে উৎসে কর সবমিলিয়ে খরচ দাঁড়াচ্ছে ৫০.৩৮ টাকা।