২৮ মে ২০২২ ১২:৫০ অপরাহ্ন

২৮ মে ২০২২ ১২:৫০ অপরাহ্ন

নন্দিত ডেস্ক

মার্চ ০৮, ২০২২
৪:৪০ অপরাহ্ন


সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার আবেদন নিষ্পত্তির নির্দেশ


২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরে এক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর করা আবেদন তিন দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবকের করা রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (০৮ মার্চ) বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জামানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

জামালপুরের তুলসিপুর কলেজ থেকে ২০২০-২০২১ শিক্ষাবর্ষে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন সুফিয়া খাতুন হাসি। তিনি ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে একটি আবেদন দেন।

ওই আবেদনে বলা হয়, যেহেতু সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে এইচএসসি-২০২১ পরীক্ষা দিয়েছি তাই আমাদের জন্য মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষা ২০২১-২০২২ এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষার সাথে সমন্বয় রেখে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে আমার মতো সাধারণ শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা বিজ্ঞানে শিক্ষাগ্রহণ শেষে দেশ ও জনগণের সেবা প্রদানের সুযোগ দিয়ে বাধিত করবেন। এরপর তার অভিভাবক শাখাওয়াত হোসেন হাইকোর্টে রিট করেন। আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী বিভূতি তরফদার। আদেশের বিষয়টি তিনি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. এ কে এম আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এতে বলা হয়,২৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টা থেকে মেডিক্যাল ভর্তির আবেদন নেওয়া শুরু হবে। ১০ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি ১ হাজার টাকা। ১১ মার্চ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত টেলিটকের মাধ্যমে আবেদন ফি জমা দেওয়া যাবে। ২৬ মার্চ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষার প্রবেশপত্র ডাউনলোড করা যাবে। ১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারা দেশে একযোগে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশি নাগরিক যারা বিদেশি শিক্ষা কার্যক্রম থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তাদের সার্টিফিকেট সমতাকরণ করতে হবে। এজন্য দুই হাজার টাকা জমা দিয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা শিক্ষা ও জনশক্তি উন্নয়ন) বরাবর আবেদন করতে হবে। ভর্তি পরীক্ষা পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের আলোকে অনুষ্ঠিত হবে। আগের বছরের মতো এইচএসসি পাস প্রার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৫ নম্বর এবং পূর্ববর্তী বছরের সরকারি মেডিক্যাল, ডেন্টাল কলেজ ডেন্টাল ইউনিটে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে মোট নম্বর থেকে ৭ দশমিক ৫ নম্বর কেটে মেধাতালিকা তৈরি করা হবে।

যারা ২০২০ বা ২০২১ সালে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় (পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞানসহ) উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারা ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। ২০১৮ সালের আগে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন না। এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পরীক্ষায় প্রাপ্ত জিপিএ মোট ২০০ নম্বর হিসাবে নির্ধারণ করে মূল্যায়ন করা হবে। এ ক্ষেত্রে এসএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএ’র জন্য ৭৫ নম্বর এবং এইচএসসিতে প্রাপ্ত জিপিএর জন্য ১২৫ নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ৩০০ নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা প্রণয়ন করা হবে।

ভর্তি পরীক্ষা ১০০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় ১০০টি এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। প্রতিটির প্রশ্নের মান ১। এমসিকিউ পরীক্ষা হবে ১ ঘণ্টায়। মেডিক্যাল ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিদ্যায় ২০, রসায়নে ২৫, জীববিজ্ঞানে ৩০, ইংরেজিতে ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান, ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক ১০ নম্বরের (মোট ১০০) প্রশ্ন থাকবে। এমসিকিউ পরীক্ষায় প্রতিটি ভুল উত্তরের জন্য শূন্য দশমিক ২৫ নম্বর কাটা যাবে। লিখিত পরীক্ষায় ১০০ নম্বরের মধ্যে ন্যূনতম ৪০ নম্বর পেতে হবে। এর কম পেলে অকৃতকার্য বলে বিবেচিত হবে। কেবল কৃতকার্য পরীক্ষার্থীদের মেধাতালিকাসহ ফল প্রকাশ করা হবে।